উত্তর প্রদেশের বাইরে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্র ঃ একটি অসম্পূর্ণ পরিকল্পনা দৃষ্টিগোচরে আনা

মুহাম্মদ সাবিথ এবং মহাম্মদ সাফিক এন

ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের জীবনে এবং বৃহত্তর দৃষ্টিকোন থেকে ভারতের সমৃদ্ধ বহুত্ববাদী ঐতিহ্য রক্ষার্থে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের কি ভুমিকা আছে?

১৮৭৫ সালে মুসলিম সংস্কারক ও দূরদর্শী স্যার সৈয়দ আহমদ খান কর্তৃক এই বিশ্ববিদ্যালয়টি মাদ্রাসাতুল উলূম মুসমানান-ই হিন্দ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় আক্রমণাত্মক ব্রিটিশ বাহিনী দ্বারা উত্তরপ্রদেশে শুরু হওয়া ১৮৫৭ সালের অভ্যুত্থানকে নির্মমভাবে দমন করার মাত্র দু’ দশক পরে, যেটি উত্তর প্রদেশে শুরু হয়েছিল এবং বিশাল মুসলিম সংখ্যাক অংশগ্রহন করেছিল।স্যার সৈয়দ চেয়েছিলেন যে ১৮৫৭ সালের ব্যর্থ স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে মুসলমানরা পুনরায় মূলধারায় যোগদান করুক এবং আরও শিক্ষামূলকভাবে অগ্রসর হোক।

মাদ্রাসাতুল উলূম শীঘ্রই মহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজে পরিণত হয়। রাজশাহী আইন পরিষদ কর্তৃক গৃহীত আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসরণ করে ১৯২০ সালে কলেজটি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হয়।

স্যার সৈয়দ মনে করতেন মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার জন্য  ইংরেজি এবং আধুনিক বিজ্ঞানের দক্ষতা প্রয়োজনীয় আছে। আলীগড়ে তাঁর প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার আগে স্যার সৈয়দ ব্রিটেনের অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজের মতো শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন.

বলা বাহুল্য, আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এ.এম.ইউ) অবশেষে দেশের জ্ঞানের অন্যতম শীর্ষ কেন্দ্র হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে এমন কয়েক হাজার হাজার নারী-পুরুষকে শিক্ষিত করেছে।

এ.এম.ইউ মণ্ডলীকে সম্বোধন করে সাম্প্রতিক এক বক্তৃতাই  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, এ.এম.ইউ মণ্ডলীর ছাত্র, শিক্ষক এবং অধ্যাপকরা – গত “শত বছর” দেশের সেবা করছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন  এ.এম.ইউ ক্যাম্পাস নিজেই একটি শহরের মতো। অনেক বিভাগ, কয়েক ডজন হোস্টেল, কয়েক হাজার শিক্ষক, অধ্যাপক এবং লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি মিনি-ইন্ডিয়াও দেখা যায়।

তবে আজ বিশ্ববিদ্যালয়টি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বৃদ্ধিতে আগ্রহী তাদের প্রত্যেক ব্যক্তির জিজ্ঞাসা করা উচিত।এ.এম.ইউ কি তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব এবং তার প্রতিষ্ঠাতার দৃষ্টিভঙ্গি পালন করছে? বা, এটি অতীতে আটকে আছে?

 

“আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় এএমইউ এর বিভিন্ন কেন্দ্র চায়”।

২০০৯ সালে, এ.এম.ইউ প্রশাসন তত্কালীন উপাচার্য অধ্যাপক পি.কে. আবদুল আজিজএর নেতৃত্বে, উত্তর প্রদেশের বাইরে পাঁচটি এ.এম.ইউ ক্যাম্পাস স্থাপনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিহার, কেরল, মধ্য প্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

অধ্যাপক আবদুল আজিজ এই উদ্যোগের পেছনের কারণ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ইআইএফকে বলেছেন “আমরা এ.এম.ইউয়ের সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক মূল্যবোধ অক্ষুন্ন রেখে দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম এবং দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে এএমইউ কেন্দ্র স্থাপন করতে চাই”।

অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেন “কেন্দ্রগুলি প্রতিষ্ঠার পিছনে তিনটি বড় কারণ ছিল – প্রথম কারণটি ছিল এএমইউর মহান উত্তরাধিকার; দ্বিতীয় কারণটি ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের চূড়ান্ত পশ্চাৎপদতা নিয়ে সাধারন মানুষের তর্ক-বিতর্ক ও সাচার কমিটির রিপোর্টের অনুসন্ধান; এবং তৃতীয় কারণটি ছিল এএমইউ আইনের একটি ধারা যা আলিগড়ের বাইরে বিশেষ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেয়”। অধ্যাপক আবদুল আজিজ ছিলেন  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মেঘালয়ের (ইউএসটিএম) উপাচার্য এবং কোচিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুস্যাট) হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বলেছিলেন যে এটি এমন একটি সময় ছিল যখন সাচার কমিটির রিপোর্ট নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা হয়েছিল। সাচার কমিটির প্রতিবেদনের পরে মনমোহন সিং-নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার প্রবর্তিত “সংখ্যালঘুদের পক্ষে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা” এবং “১৫-দফা কর্মসূচী” নিয়েও আলোচনা চলছিল ।সুতরাং, আলীগড়ের বাইরের এএমইউ বিশেষ কেন্দ্রগুলির ধারণার পিছনে সাচার কমিটির প্রতিবেদনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

এএমইউ অ্যাক্টের একটি ধারা (আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯০২), যা বিশ্ববিদ্যালয়কে আলীগড়ের বাইরেও বিশেষ কেন্দ্রগুলি চালু করার ক্ষমতা সহজ করে দেয়। “আমি দেশের বিভিন্ন স্থানে এএমইউ কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলাম। বিশেষত শিক্ষার ক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের পশ্চাৎপদতা দেখে আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এএমইউয়ের প্রতিস্থাপন করতে চেয়েছিলাম” প্রাক্তন উপাচার্য বলেছিলেন।

একটি উদ্যোগ যা অভূতপূর্ব সমর্থন এবং উত্সাহ আকর্ষণ করেছিল

বিহার, বাংলা এবং কেরালায় এএমইউ বিশেষ কেন্দ্র স্থাপনের সময় তিনি যে দিনগুলি কাটিয়েছিলেন তা স্মরণ করে প্রাক্তন এএমইউ অধ্যাপক বলেছিলেন যে এই উদ্যোগ বিভিন্ন রাজ্যের মুসলমানদের মধ্যে নতুন আশা জাগাতে পারে।

“ধারণাটি বাস্তবে পরিণত হয়েছিল কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংস্থা যেমন এএমইউ কোর্ট এবং এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রাজনীতিবিদরা এই ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন”।

বিশেষত তত্কালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং এইচআরডি প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আশরাফ ফাতমি এই ধারণার সমর্থক ছিলেন। “প্রণব মুখার্জি প্রস্তাবিত এএমইউ কেন্দ্রগুলির জন্য ইউনিয়ন বাজেটে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের সাহায্য করেছিলেন, এবং মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রের জমি নিশ্চিত করতে সিপিআই (এম) শাসিত বেঙ্গল রাজ্য সরকারের সাথেও কাজ করেছিলেন”।

প্রস্তাবিত রাজ্যগুলিতে এএমইউ কেন্দ্রগুলির পক্ষে বিভিন্ন রাজ্যে “চিত্তাকর্ষক জনসাধারণের দাবি ও আন্দোলন” ছিল- উপাচার্য বলেন।

এই ধারণার মূল ভূমিকা পালনকারী প্রাক্তন উপাচার্য বলেন যে এএমইউ বিভিন্ন কেন্দ্রগুলিকে সমর্থনকারী রাজনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ভি.এস. আছুথানন্দন ও ওমেন চন্ডি, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, আবদুল মান্নান হোসেন (লোকসভা সাংসদ, মুর্শিদাবাদ) এবং মাওলানা আসারারুল হক (লোকসভার সাংসদ, কিশানগঞ্জ)।তিনি কেরালার মন্ত্রী এম.এ. বেবি, পালোলি মোহাম্মদ কুট্টি, আবদুল রাব্ব, পি.কে. কুনালিকুট্টি এবং আর্যদান মুহম্মদের দেওয়া সহায়তারও প্রশংসা করেছেন।

এই রাজনীতিবিদ এবং অন্যদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং প্রচেষ্টা এএমইউ প্রশাসনের মধ্যে “আত্মবিশ্বাস” তৈরি করেছিল এবং এই ধারণাটিকে “একটি রূপ দেয় এবং শীঘ্রই বাস্তবতায় পরিণত হয়,”

২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পটি ঘোষণার পর দেড় বছরের মধ্যে বিহার, বাংলা এবং কেরালার সরকারগুলি  বিশ্ববিদ্যালয়কে জমি  হস্তান্তর করেছিল। প্রকল্পটি ঘোষণার মাত্র দু’বছর পরে ২০১১ সালের প্রথম দিকে ক্লাস শুরু হয়েছিল।

তিনি বলেছিলেন, “ভি.এস. আছুতানন্দন এর নেতৃত্বে কেরালার সরকার মালাপুপুরে এই কেন্দ্রের জন্য প্রথম জমি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বাংলায়, যদিও প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্জ ভিন্ন ভিন্ন  দলের প্রতিনিথি ছিলেন, “তারা মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য একসাথে কাজ করেছিলেন”।

অন্য দুটি রাজ্যের মধ্যে যেখানে এ.এম.ইউ প্রশাসন বিশেষ কেন্দ্র স্থাপন করতে চেয়েছিল, মধ্য প্রদেশ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছিল, এবং মহারাষ্ট্র  প্রথমে প্রতিক্রিয়া জানাতে দ্বিধাগ্রস্ত করেছিল, অবশেষে যখন অন্য রাজ্যের কেন্দ্রগুলি বাস্তবে পরিণত হয়েছিল তখন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। তবে, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র কেন্দ্র উভয়ই বাস্তবে পরিণত হয়নি।

পাঁচটি রাজ্য, যেখানে আমরা মূলত কেন্দ্রগুলি স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিলাম,  এছাড়াও আমরা আরও এ.এম.ইউ কেন্দ্র খোলার জন্য আরও পাঁচটি রাজ্যের প্রস্তাবও পেয়েছিলাম।

রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত আমাদের একটি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আজমীরের প্রায় 300-একর জমি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। একইভাবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গোগোই আমাকে চিঠি লিখেছিলেন যে তিনি আমাদের গুয়াহাটিতে জমি দেবেন। হরিয়ানা সরকারও আমাদের জানিয়েছিল যে তারা আমাদের  একটি কেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করবে। তামিলনাড়ু ওয়াকফ বোর্ড একটি কেন্দ্র চালু করার জন্য আমাদের জমি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। অন্ধ্র প্রদেশ ওয়াক্ফ বোর্ডও অনুরূপ প্রস্তাব দিয়েছিল।  এই প্রস্তাবগুলি, যদি বাস্তবে পরিণত হত, তবে “বিশাল শিক্ষামূলক পরিবর্তনের” কারণ হতে পারতো” অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেছেন।

তিনি বলেন, এ.এম.ইউর অবকাঠামোর মতো কেন্দ্রগুলি পরিচালনা করার জন্য ব্যয় বহন করার ক্ষমতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া যা 10-15 বছর সময় নেবে। আমাদের এককভাবে সব অর্জন করার সম্ভব হবে না। তবে এই কেন্দ্রগুলি নিউক্লিয়াস হিসাবে কাজ করবে, যেটা একটি অনুপ্রেরণা ”।

কেন্দ্রগুলি যেখানে শুরু হয়েছিল সেখানেই রয়েছে

তবে তিন রাজ্যের এ.এম.ইউ বিশেষ কেন্দ্রগুলির বর্তমান অবস্থা অবহেলা ও অবিচারের কথা বলে। কেন্দ্রগুলির সাথে যুক্ত প্রবীণ  ও বর্তমান উভয় কর্মকর্তাই বলেছেন যে প্রতিষ্ঠানগুলি যে লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল তা অর্জন করা থেকে অনেক দূরে আছে।

কেরালার মালাপুপুরমের এ.এম.ইউ কেন্দ্রের পরিচালক ডাঃ ফয়সাল কে.পি বলেছেন, কেন্দ্রটি তহবিলের ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছে। “অর্থের অভাব রয়েছে,” তিনি বলেন। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রটি পরিকাঠামোগত সুবিধার উন্নতি এবং নতুন কোর্স চালু করার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব জমা দিয়েছে এবং অনুমতির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। অধ্যাপক হাসান ইমাম, যিনি বিহারের কিশনগঞ্জে এ.এম.ইউ কেন্দ্রের পরিচালক, তিনি বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এখনও প্রতিষ্ঠানের পদ ও তহবিল অনুমোদন করেনি”. তবে অধ্যাপক ইমাম বলেছেন, “এ.এম.ইউ কর্তৃপক্ষের সহায়তায়” কেন্দ্রটি ভালভাবে কাজ করছে” । “এই কেন্দ্রটি সুচারুভাবে পরিচালনায় আমরা এএমইউর কাছ থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পাচ্ছি,” তিনি বলেছিলেন।

তবে অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেছেন যে এই কেন্দ্রগুলির বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন. “তারা যেখানে শুরু করেছিল সেখানেই আছে”।

প্রতিষ্ঠার বেশ কয়েক বছর পরেও, এই কেন্দ্রগুলি তাদের শুরু করা দুটি থেকে তিনটি কোর্স ব্যতীত কোনও নতুন কোর্স  শুরু করছে না। এই কেন্দ্রগুলিতে মাত্র তিনটি কোর্স পড়ান হয় – বি.এড, এম.বি.এ এবং বি.এ. এল.এল.বি.।

 তিনটি কেন্দ্রই বি.এডের এবং এমবিএ প্রোগ্রামগুলি পড়ান হয়, মালাপুপুরম এবং মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রগুলি অতিরিক্তভাবে বি.এ.এল.এল.বি (অনার্স) পড়ার সুযোগ আছে।  

তবে পরিচালক অধ্যাপক হাসান ইমামের মতে কিশনগঞ্জ কেন্দ্রে বি.এড কর্মসূচি বর্তমানে “স্হগিত” রয়েছে। কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বি.এড কর্মসূচি স্থগিত রয়েছে” তিনি বলেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন – বিএডের পুনরারম্ভ বিষয়টি বর্তমানে পাটনা হাইকোর্টের বিচারধিন আছে ।

এই সমস্ত ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে এই এ.এম.ইউ কেন্দ্রগুলি অবহেলার মুখোমুখি হচ্ছে এবং এই কেন্দ্রগুলি রক্ষা এবং ক্রমবিকাশের জন্য এ.এম.ইউ প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সরকার উভয়েরই তাত্ক্ষণিক ও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজনীয়।

আমাদের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় সংস্থাগুলি দ্বারা অনুমোদিত এই কেন্দ্রগুলি 2020-21-এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত ছিল।

অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেছেন, তাঁর প্রশাসনকে প্রথম থেকেই সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আমাদের বিরুদ্ধে এ.এম.ইউর খণ্ডন এবং এর সংস্কৃতি নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এই কেন্দ্রগুলির বিরুদ্ধে এক ধরণের অপপ্রচার চালানো হয়েছিল এবং এটি অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক ছিল”।

 প্রাক্তন উপাচার্য মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার কার্যকাল শেষ হওয়ার পরে কেন্দ্রগুলি সম্পর্কে স্পষ্টতই তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছিল এবং এমনকি খুলদাবাদে মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারের দেওয়া জমি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যেখানে বেশ কয়েকটি সুফি বাস করত।

তাঁর প্রশাসন এই কেন্দ্রগুলির উন্নয়নের জন্য একটি “পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা” প্রস্তুত করেছিলেন এবং তাঁর প্রশাসনের প্রস্তাবগুলির তথা সরকারের প্রতিক্রিয়াও এই পরিকল্পনার ভিত্তিতেই ছিল। তিনি বলেছিলেন”মূল পরিকল্পনা অনুসারে, দশ বছর পূর্ণ করার পরে এই প্রতিটি ক্যাম্পাসে (বিশেষ কেন্দ্র) দশ হাজার ছাত্র এবং এক হাজার শিক্ষক থাকা উচিত ছিল,” ।

অধ্যাপক আবদুল আজিজ মনে করেন যে তাহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার পরে, ইতিমধ্যে শুরু হওয়া কেন্দ্রগুলি উন্নত করতে বা অন্য প্রস্তাবিত কেন্দ্রগুলি প্রতিষ্ঠার জন্য “কোনও গুরুতর প্রচেষ্টা” হয়নি। আলিগড়ের বাইরের এএমইউ কেন্দ্রগুলির বিষয়ে জ্ঞাত এক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী বলেছেন, এই কেন্দ্রগুলিকে বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজনের জন্য “রাজস্ব উত্পন্ন” করতে বলা হয়েছে, যদিও সদ্য শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাধীনভাবে তহবিল সংগ্রহ করা সহজ নয়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে এ.এম.ইউ প্রশাসন ‘কেবলমাত্র আলিগড়ের বিষয় নিয়েই জড়িত থাকতেই পারে’, কিন্তু উত্তর প্রদেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত মনোযোগ দিচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রবীণ কর্মকর্তা বলেছিলেন, যিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিশেষ কেন্দ্রগুলির দ্বারা প্রস্তাবিত প্রস্তাবগুলির বিষয়ে তাত্ক্ষণিক ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না”।

 অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেছেন যে তিনি এখন “অত্যন্ত দু: খিত ও হতাশ” বোধ করছেন কারণ এ.এম.ইউয়ের বিশেষ কেন্দ্রগুলি যেখান থেকে এক দশক আগে শুরু হয়েছিল সেখান থেকে সামনে বাড়েনি। তিনি বলেছিলেন”আমরা ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি,”। তিনি আরও যোগ করেছেন যে, রাজ্য সরকারগুলি, যেগুলি এ.এম.ইউ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য “একর একর জমি” দিয়েছে, তাদেরও “বিশ্বাসঘাতকতা” করা হয়েছে। “আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারিনি”।

“পদ্ধতিগুলি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হলে , সবকিছু অর্জন করা যায় “

“যে কোনও কিছু অর্জন করা যায়, বিশেষ করে কেন্দ্র সরকারের আর্থিক সহায়তা, যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট উপাচার্য এবং অন্যান্য আধিকারিকরা সরকারী পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করেন। আপনি পদ্ধতিটি অনুসরণ করুন, সরকারী বিধি অনুসারে আপনার কাজটি করুন, তারপরে আপনার প্রস্তাবগুলি সরকারী বিভাগের সমস্ত বিভাগের মাধ্যমে সহজেই পাশ হন”, এটি আমার অভিজ্ঞতা, ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বদানকারী প্রাক্তন উপাচার্য বলেন।

“ভারত সরকারের সাথে আমার অভিজ্ঞতা এতটাই স্বচ্ছন্দ ছিল যে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের যা চেয়েছিলাম সব পেয়েছি। [কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছ থেকে] চাপের দরকার পড়েনি ”.

তাঁর মতে, প্রস্তুতিপর্বের কাজের অনুপস্থিতি” থাকলে অনেক প্রস্তাব সফল হয় না। “আপনি কিছু করতে চাইলে আপনার কাজটি এক বছর আগে শুরু করা দরকার” ” এমনকি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য “কাজ শেষ করতে পারতেন” যখন এইচ.আর.ডি মন্ত্রীর তাঁর সাথে পুরোপুরি ভালভাবে ছিলেন না। কোনও মন্ত্রী আপনাকে ‘না’ বলতে পারবেন না আপনি যদি সঠিকভাবে কাজ করেন।এটাই আমার অভিজ্ঞতা এবং বিশ্বাস ”, তিনি বলেছিলেন।

কিষাণগঞ্জের এ.এম.ইউ কেন্দ্র সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে, পরিচালক অধ্যাপক হাসান ইমাম, বলেছিলেন যে তিনি এই কেন্দ্র সম্পর্কে “অত্যন্ত আশাবাদী” এবং তিনি আশা করছেন যে কেন্দ্রটি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে, এবং অদূর ভবিষ্যতে এটি আধুনিক পরিকাঠামো এবং পর্যাপ্ত কর্মী সহ একটি বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় হবে।

অন্য সবাই,  যাহারা এ.এম.ইউ ধারণাটি পছন্দ করেন এবং যাহারা ভারতীয় মুসলমানদের শিক্ষাগত পশ্চাদপসরণ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, কেবল এই কিশানগঞ্জ কেন্দ্রের জন্য নয়, এ.এম.ইউ প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য এবং ভবিষ্যতে গড়ে উঠতে পারে এমন প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য এই উজ্জ্বল আশা  রাখেন।

 

                                                                       Translated by Md Anisujjaman

WordPress Image Lightbox